পেকুয়া প্রতিনিধি:

“পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, সমাপনী অনুষ্ঠান এবং প্রবীণদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সমাজে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ১৫ জন প্রবীণ ব্যক্তির মাঝে ফলমূল, দুধ, ডিমসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রীর বিশেষ প্যাকেজ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. কাওসারের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিদুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মাহাবুবুল আলম, ফোকাল পারসন (পুষ্টি) ডা. এস.এম. তৌহিদুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. বেলাল হায়দার এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) সরওয়ার জামাল।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পুষ্টি সচেতনতা তৈরির একটি সামাজিক আন্দোলন। ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে মাতৃ ও শিশুপুষ্টি কাউন্সেলিং, পুষ্টি মেলা, পুষ্টি অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, আলোচনা সভা এবং প্রবীণদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে সুস্থ, সবল ও উৎপাদনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে পুষ্টি বৈষম্য দূর করা জরুরি। শিশু, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী মা এবং প্রবীণদের জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।”

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পেকুয়ায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি, সৃজনশীলতা বিকাশ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা, শিশুর খর্বাকৃতি বৃদ্ধি এবং খাদ্য বৈষম্য প্রতিরোধে পরিবারভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের সরকারি উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান ছাড়াও উপস্থিত অভিভাবকদের পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।